কোন রক্তের গ্রুপে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি?

১৮ আগস্ট ২০২৬

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার কথা উঠলেই সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাব কিংবা পারিবারিক ইতিহাসের মতো বিষয়গুলোই সামনে আসে। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণার দাবি অনুযায়ী, রক্তের গ্রুপও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, অন্য যেকোনো রক্তের গ্রুপের তুলনায় ‘বি’ (B) রক্তের গ্রুপের মানুষের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রায় ৫১টি গবেষণার তথ্য পর্যালোচনার পর বিজ্ঞানীরা রক্তের গ্রুপ ও ডায়াবেটিসের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি হতে পারে।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এটি শুধুই একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত। অর্থাৎ, কারও রক্তের গ্রুপ ‘বি’ হলেই যে তিনি নিশ্চিতভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন—বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।

কেন ‘বি’ গ্রুপে ঝুঁকি বেশি হতে পারে? বিজ্ঞানীদের ধারণা, রক্তের গ্রুপ শরীরের কিছু জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণু, শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতার ওপর রক্তের গ্রুপের কোনো প্রভাব থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তারা।

শুধু রক্তের গ্রুপ নয়, নিয়ন্ত্রক আপনার জীবনযাপন চিকিৎসকদের মতে, রক্তের গ্রুপকে একক কারণ বলা যাবে না। ডায়াবেটিসের মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, দীর্ঘদিন মানসিক চাপ এবং বংশগত ইতিহাস।

তাই ‘বি’ রক্তের গ্রুপ না হলেও অসচেতন জীবনযাপনের কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। একইভাবে ‘বি’ গ্রুপের মানুষও যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পরিচালনা করেন, তবে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে করণীয় রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করার সুযোগ না থাকলেও নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা যেসব পরামর্শ দিচ্ছেন:

  • নিয়মিত শরীরচর্চা ও কায়িক পরিশ্রম করা।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা ও মানসিক চাপ কমানো।
  • নিয়মিত রক্তে শর্করার (Sugar) মাত্রা পরীক্ষা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের গ্রুপ একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির সূচক হতে পারে, তবে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সচেতন জীবনযাপনেই।

সর্বশেষ