একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে ভাষণ দিয়েছেন, তা পরিবর্তন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোটের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত ৮টি দল।
পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টাকে ‘ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্তি ও জ’টিলতা সৃষ্টিকারী’ কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টাকে অ’পসারণ এবং প্রশাসনে নিরপেক্ষ, সৎ ও জবাবদিহির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এসব দাবি জানান।
মূল আপত্তির বিষয়সমূহ
- গণভোট ও নির্বাচন: ডা. তাহের বলেন, গণভোট হচ্ছে সংস্কার ইস্যুতে, আর জাতীয় নির্বাচন সরকার গঠনের জন্য। দুটো আলাদা বিষয়। একই দিনে গণভোট হলে তাতে কম লোক আগ্রহ দেখাবে। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে বি’এন’পি’র স্বার্থ পূরণের জন্য একটি ‘ফাঁ’দ’ পাতা হয়েছে, যেখানে সরকার বুঝে বা না বুঝে পা দিয়েছে।
- জুলাই সনদের ব্যত্যয়: তিনি বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে আদেশ গ্রহণ করলেও সংস্কার কমিশন যেভাবে সুপারিশ দিয়েছিল, তার ব্যত্যয় ঘটানোয় তারা আপত্তি জানাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একটি বিশেষ দলের স্বার্থে অনেক পরিবর্তন এনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- অ-নিরপেক্ষতার অভিযোগ: ডা. তাহেরের মতে, এই সরকার আর নিরপেক্ষ নেই, বরং একটি দলের প্রতি আনুগত্যশীল সরকারে পরিণত হয়েছে। এর শুরু হয়েছে লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং আলোচনা না করেই রোডম্যাপ দেওয়ার মাধ্যমে।
- ভোটের শঙ্কা: তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ কয়েকজন উপদেষ্টা প্রশাসনকে দলীয় রূপ দিয়েছেন।
ডা. তাহের জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর আট দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আছে। সেখান থেকে সার্বিক করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


