জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় পার্টির যেসব নেতা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করেছেন এবং সেই শাসনব্যবস্থায় সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদের রাজনৈতিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তার দাবি, তারা আওয়ামী লীগের সহযোগী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাই আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার তাদের নেই।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হলরুমে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, জাতীয় পার্টির নেতারা এখনো আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেখার আশা প্রকাশ করছেন, যা এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা নষ্ট করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এনসিপি কোনোভাবেই এ ধরনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে ফিরে আসতে তার কোনো বাস্তব বাধা থাকার কথা নয়। সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে কেউ যদি অগ্রহণযোগ্য আচরণ করে, এনসিপি সেই কাজ সমর্থন করবে না এবং প্রয়োজন হলে যৌক্তিক সমালোচনা করবে।
পুলিশ প্রশাসনের কিছু সদস্যের আচরণ নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তার অভিযোগ, এখনও কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত এবং আর্থিক লেনদেন ছাড়া কাজ করেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ওসি, ইউএনও, ডিসি ও এসপিদের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে সরকারের আস্থা থেকে, কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যেও কেউ কেউ অতীতে একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখায় বা দলের হয়ে কাজ করে, এনসিপি তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেবে।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে প্রত্যাশিত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি তৈরি হয়নি। সরকারের প্রচেষ্টা থাকলেও মাঠ প্রশাসনের অনেকেই এখনও পুরোনো রাজনৈতিক অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি।
সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কারী কৃষিবিদ গোলাম মুর্তজা সেলিম, জেলা আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমান ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



