১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ কুকুরছানাকে চুবিয়ে হত্যাকারীর আরও যে শাস্তি হতে পারে

৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অগোচরে ৮টি ছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ডুবিয়ে হ’ত্যাকারী নিশি বেগমকে উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমের মাধ্যমে অমানবিকভাবে আটটি কুকুর ছানা ডুবিয়ে হ’ত্যার ঘটনা ঘটে।

সোমবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশি বেগমকে তার কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান। সরেজমিনে দেখা যায়, নিশি বেগম তার কোয়ার্টার থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

হ’ত্যাকারীর দাবি ও মামলার প্রস্তুতি: কুকুরছানা হ’ত্যায় অভিযুক্ত নিশি বেগম বলেন, “বাচ্চাগুলো আমাদের খুবই ডিস্টার্ব করত তাই আমি বাজারের ব্যাগে আটটি কুকুর ছানাকে ভরে পুকুরের পাশে একটি গাছের গোড়ায় রেখে আসি। এরপরে হয়তো যে কোনোভাবেই পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়, আমি নিজে বাচ্চাগুলোকে পুকুরে ফেলে দেই নাই।”

তবে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরছানা হ’ত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ এর অধীনে কুকুর ছানা হ’ত্যা অপরাধের কারণে মামলার একটি বিধান রয়েছে। সেহেতু এই অমানবিক কুকুরছানা হ’ত্যাকারী নিশি বেগমের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, এমনকি মামলা করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

তিনি আরও জানান, মা কুকুর ইতোমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে অ্যানিমেল অ্যান্টিভেস্ট কমিটি ঈশ্বরদীতে এসে পৌঁছাবে।

সর্বশেষ