১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল: প্রথম লাগেজ ১২, সর্বশেষটি মিলবে ৪০ মিনিটে

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনালে যাত্রীদের লাগেজ পেতে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। বিমান অবতরণের পর প্রথম লাগেজ মাত্র ১২ মিনিটে এবং সর্বশেষ লাগেজ সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার কড়া নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ দিতে ব্যর্থ হলে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে (অপারেটর) গুনতে হবে আর্থিক জরিমানা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্যের কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধন

মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধনের আশা করছে সরকার। তবে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে করা চুক্তিতে লাগেজ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম লাগেজে ১২ মিনিট এবং সর্বশেষ লাগেজে ২৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। ফার্স্ট লাগেজ ১২ মিনিটে ও লাস্ট লাগেজ ৪০ মিনিটের মধ্যে না পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে।

পুরোনো টার্মিনালগুলোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে সেখানেও অধিকাংশ যাত্রী ৪০ মিনিটের মধ্যেই লাগেজ পাচ্ছেন।

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক রুটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

সংবাদ সম্মেলনে দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার ‘এয়ার এশিয়া’ ইতোমধ্যে পেনাং থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশ-কে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিমানের ফ্লিট ও রুট বৃদ্ধির পরিকল্পনা

জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর ছোট হওয়ায় অনেক রুটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিমানের বহর সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি লিজে উড়োজাহাজ আনার পরিকল্পনা চলছে। উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়লে নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে, ফলে টিকিটের দামও কিছুটা কমানো যাবে। এছাড়া জাপান রুটে বিমানের ফ্লাইট লাভজনক হওয়ায় সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ