এবার জাপানে ঘরজামাই হওয়ার সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের পর সাধারণত কনেকে স্বামীর পরিবারে যুক্ত হতে দেখা যায়। তবে জাপানে ঘটছে ঠিক এর উল্টো ও এক চমকপ্রদ ঘটনা। বিয়ের পর শুধু জামাই হিসেবেই নয়, পরিবারের নতুন সদস্য এবং ব্যবসার মূল উত্তরাধিকারী করতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো। জাপানের দীর্ঘদিনের এই ঐতিহাসিক ও আইনি প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’—যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘দত্তক ঘরজামাই’।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু দত্তক নেওয়ার রীতি থাকলেও জাপানে দত্তকপ্রথার ৯০ শতাংশের বেশিই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের (সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ) কেন্দ্র করে ঘটে থাকে। এর নেপথ্যে রয়েছে জাপানি পরিবারগুলোর শত বছরের ঐতিহ্য ও কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার কৌশল।

কেন এই প্রথা?

জাপানের বহু পুরোনো পারিবারিক ব্যবসায় যদি পুত্রসন্তান না থাকে, অথবা সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় অযোগ্য হয়, তবে তারা এক উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নেয়। এই ব্যক্তি পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে এবং শ্বশুরের পদবি গ্রহণ করে সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হন। এর ফলে তিনি পরিবারের আসল ছেলের মতোই পূর্ণ সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার অর্জন করেন। সুজুকি মোটর করপোরেশন, নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসেও এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথার প্রভূত প্রভাব দেখা গেছে। সুজুকির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন এই প্রথায় আসা একজন দত্তক জামাই।

বাংলাদেশিসহ বিদেশিদেরও কি সুযোগ রয়েছে?

কূটনৈতিক ও সামাজিক সূত্র অনুযায়ী, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্সি) থাকা বিদেশিরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং আদালতের অনুমোদনে ‘মুকোয়োশি’ হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তান হতে পারবেন। তবে এই প্রথায় যুক্ত হলেই সরাসরি নাগরিকত্ব বা ভিসা মেলে না, সেটির জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

জন্মহার হ্রাস ও আধুনিক প্রেক্ষাপট

বর্তমানে জাপানে তীব্র জন্মহার হ্রাসের কারণে শত বছরের পুরোনো পারিবারিক ব্যবসাগুলো টিকিয়ে রাখতে এই প্রথার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যোগ্য প্রার্থী খুঁজে দিতে জাপানে এখন বিশেষ ‘ম্যাচমেকিং’ সংস্থাও কাজ করছে। দেশটিতে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে—‘নিজের ছেলেকে হয়তো বেছে নেওয়া যায় না, কিন্তু উপযুক্ত জামাইকে ঠিকই বেছে নেওয়া যায়।’

যদিও আধুনিক জাপানে নারীরাও ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এই পুরুষকেন্দ্রিক প্রথা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে, তবুও বংশের পদবি ধরে রাখা এবং শত বছরের ব্যবসা বাঁচাতে ‘মুকোয়োশি’ প্রথা আজও সমান জনপ্রিয়।

সর্বশেষ