বন্ধ হয়ে যেতে পারে গ্রাহকের ৪ কোটি সিম কার্ড

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোবাইল ফোনে আর্থিক জালিয়াতি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে ৫টিতে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪ কোটি সক্রিয় সিম কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মোবাইল অপারেটর সূত্রগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তাঘাটে বিনামূল্যে বা বিভিন্ন অফারের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে কিছু অসাধু চক্র। পরবর্তীতে এসব তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল অপরাধে। এমন পরিস্থিতিতে বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিম নিবন্ধনে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

নতুন প্রস্তাবে যা যা থাকছে:

  • এক জাতীয় পরিচয়পত্রে ৫ সিম: একজন গ্রাহকের নামে সর্বোচ্চ ৫টির বেশি সিম নিবন্ধন রাখা যাবে না।
  • নতুন সিম নিবন্ধনে ৭ দিনের বিরতি: এনআইডি দিয়ে একটি নতুন সিম কেনার পর পরবর্তী সিম তুলতে গ্রাহককে অন্তত ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
  • অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই: দুটির বেশি সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিটিআরসির কেন্দ্রীয় বায়োমেট্রিক প্ল্যাটফর্ম ও পুলিশের ‘ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (CDMS)-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তথ্যাদি যাচাইয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিটিআরসির হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজারের বেশি গ্রাহকের নামে প্রায় ১৯ কোটি সক্রিয় সিম রয়েছে।

এদিকে টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সামাজিক বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় করেই এ বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ সিম সংখ্যা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টিতে নির্ধারণ করেছিল সরকার।

সর্বশেষ