বাবার আপন খালুর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান কী

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বংশীয় পবিত্রতা ও মাহরামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ফিকহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বাবার আপন খালুর রক্তের বা দুধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকে না। বৈবাহিক সূত্রে তিনি আত্মীয় হলেও স্থায়ী মাহরাম নন। তবে এই বিবাহের ক্ষেত্রে শরীয়তের একটি বিশেষ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কখন বিবাহ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ? যদি মেয়েটির বাবার আপন খালা (যিনি বর্তমানে ওই ব্যক্তির স্ত্রী) জীবিত থাকেন এবং তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে, তবে একই সময়ে ওই ব্যক্তি তাঁর বর্তমান স্ত্রী এবং স্ত্রীর ভাগনের মেয়েকে (বা নাতনিকে) নিজের বিবাহে একত্র করতে পারবেন না। এ অবস্থায় এই বিবাহ সম্পন্ন করা সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল।

কখন এই বিবাহ বৈধ ও হালাল? যদি কোনো কারণে মেয়েটির বাবার ওই খালা মৃত্যুবরণ করেন কিংবা তাঁদের মধ্যে শরীয়তসম্মতভাবে চিরতরে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে এবং খালার ইদ্দত (অপেক্ষার সময়) পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়ে যায়, তবে রক্তের বন্ধন না থাকায় ওই ব্যক্তি (বাবার খালু) নতুন আকদ ও মোহরানার মাধ্যমে ওই মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন।

হাদিস শরিফ ও ফিকহি কায়েদা (মূলনীতি) রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—‘কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সঙ্গে একই স্বামীর বিবাহে একত্র করা যাবে না’ (সহিহ বুখারি: ৫১০৯)। মুজতাহিদ ফকিহগণ এই হাদিসের আলোকে স্ত্রীর পরবর্তী প্রজন্মকেও (ভাগনি বা ভাতিজির মেয়ে) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-হিদায়া’-র মূলনীতি অনুযায়ী—এমন দুই নারীকে একই পুরুষ একসঙ্গে বিবাহে একত্র করতে পারবেন না, যাদের মধ্যে একজনকে পুরুষ কল্পনা করলে অপরজনকে বিবাহ করা হারাম হয়ে যায়।

আইনি প্রয়োগ ও দলিল:

  • এখানে দুজন নারী হলেন: ১. বাবার খালা (বর্তমান স্ত্রী) এবং ২. বাবার ভাগনের মেয়ে (প্রস্তাবিত স্ত্রী)।
  • বাবার খালাকে যদি পুরুষ ধরা হয়, তবে তিনি হবেন মেয়ের বাবার মামা (অর্থাৎ মেয়ের নানাতুল্য)। কোনো পুরুষ তার ভাগনের মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন না। তাই এই দুই নারীকে একই সঙ্গে এক স্বামীর অধীন করা শরীয়তে নিষিদ্ধ।
  • ‘ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি’-তেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো নারী এবং তার বোনের ছেলের মেয়েকে (ভাগনের মেয়ে) একই সঙ্গে বিবাহে একত্র করা জায়েজ নয়।

পরিশেষে, বাবার আপন খালু ও মেয়ের মধ্যে সরাসরি কোনো রক্তসম্পর্ক না থাকায় তাঁদের বিবাহে বাধা নেই—যদি না ওই খালুর সংসারে মেয়ের বাবার আপন খালা স্ত্রী হিসেবে বিদ্যমান থাকেন। খালার মৃত্যুর পর বা চূড়ান্ত তালাকের ইদ্দত শেষে এই বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ।

সর্বশেষ