পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, পিছিয়ে পড়া উত্তরবঙ্গকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে উপেক্ষিত ছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অবস্থার পরিবর্তনে বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো, শিল্পায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর নগরীর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রংপুরে আসেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং রবিবার নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে যাবেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থানের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই বিষয়ে ভারত এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। রাষ্ট্রীয় কূটনীতি সময় সাপেক্ষ বিষয়। কাজটি সতর্কতা ও সম্মানজনক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হয়।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ— এসব ক্ষেত্রেই আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার কখনোই আপস করবে না।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান: দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উত্তরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষি, পশুপালন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মৎস্য ও হালকা শিল্প— সবক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে নীতি সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা-রেল যোগাযোগ বাড়ানোসহ একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই উত্তরবঙ্গের তরুণেরা এখানেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক। তাদের ঢাকায় বা অন্য কোথাও ছুটে যেতে না হয়।” দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং নতুন শিল্প স্থাপিত হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



