১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০২৬ সালে ‘এক লাইট–ডে’ দূরত্বে পৌঁছাবে ভয়েজার–১

১০ ডিসেম্বর ২০২৫

নাসার মহাকাশযান ভয়েজার–১ আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বর এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবে, যেখানে পৃথিবী থেকে পাঠানো আলো বা রেডিও সংকেত সেখানে যেতে সময় নেবে পুরো ২৪ ঘণ্টা। এ দূরত্বকে বলা হয় এক লাইট–ডে, অর্থাৎ এক দিনে আলো যতদূর অতিক্রম করে—প্রায় ১৬ বিলিয়ন মাইল বা ২৬ বিলিয়ন কিলোমিটার

১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপিত ভয়েজার–১ বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫.৮ বিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করছে। এটি সূর্যের চারপাশের সুরক্ষাবলয় হেলিওস্ফিয়ার ছাড়িয়ে নক্ষত্রের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভ্রমণ করছে।

দূরত্ব এত বেশি যে নির্দেশ পাঠাতে সময় লাগে এক দিন। প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুজি ডড উদাহরণ দিয়ে বলেন,
‘যদি আমি সোমবার সকাল ৮টায় “গুড মর্নিং ভয়েজার!” বলি, তার জবাব পাব মঙ্গলবার সকাল ৮টায়।’

ভয়েজার–১ ও ভয়েজার–২—দুটি মহাকাশযানই শক্তি হারাতে হারাতে এখনও টিকে আছে। ন্যূনতম শক্তি বজায় রাখতে অনেক যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়েছে। মহাকাশযানের অ্যান্টেনা অবশ্যই পৃথিবীর দিকে তাক করা থাকতে হয়; না হলে সংকেত পাঠানো–পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং মিশন থেমে যাবে।

মাত্র ১৬০ বিট–প্রতি–সেকেন্ড গতিতে তথ্য পাঠালেও ভয়েজার–১ এখনও সূর্যের প্রভাবসীমার শেষ সীমানা হেলিওপজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠাচ্ছে। নাসার লক্ষ্য অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত এর বিজ্ঞানযন্ত্র সচল রাখা। কেউ কেউ আশা করছেন এটি আরও দুই থেকে পাঁচ বছর চালু থাকতে পারে।

ডড বলেন, ভয়েজার শুধু একটি যন্ত্র নয়—এটি পৃথিবীর ‘দূত’। এত বছর ধরে মহাকাশে ভেসে থাকা সত্যিই বিস্ময়কর।

সর্বশেষ