১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিছুতেই ধূমপান ছাড়তে পারছেন না? ৩-৩-৩-৩ নিয়মে রইল ছাড়ার উপায়

১১ ডিসেম্বর ২০২৫

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর—এ কথা সবাই জানলেও অনেকেই অভ্যাসের কারণে এটি ছাড়তে পারেন না। নিয়মিত ধূমপায়ীরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও নেশা থেকে বের হয়ে আসতে ব্যর্থ হন। তাদের কথা মাথায় রেখে ধূমপান ত্যাগের সহজ একটি কৌশল জানালেন ভারতের চিকিৎসক ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়

নিকোটিন নির্ভরতার কারণে ছাড়তে কঠিন

চিকিৎসকের মতে, ধূমপান ছাড়তে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিকোটিনের প্রতি শরীরের নির্ভরতা। এটি শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও মানুষকে সিগারেটের দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি জানান, ধূমপান বন্ধের পর প্রথম দিকেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ক্রেভিং—হঠাৎ করে সিগারেট খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা। সাধারণত ধূমপান বন্ধের ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে এই ক্রেভিং বেশি অনুভূত হয়।

ক্রেভিং কীভাবে কাজ করে?

ক্রেভিং আসলে শরীরে কিছু হরমোনের পরিবর্তনের প্রভাব। এ সময় ব্যক্তি অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, তন্দ্রা অথবা মাথা ঝিমঝিম করার মতো অনুভূতি পেতে পারেন। প্রতিদিন কয়েক প্যাকেট সিগারেট খাওয়া কেউ হঠাৎ তা বন্ধ করলে এই পরিবর্তন আরও জোরালোভাবে আসে।

৩–৩–৩–৩ নিয়ম

ডা. নারায়ণের মতে, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে চারটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ—

  1. ৩ দিন – শুরুতে সবচেয়ে কঠিন সময়; এ সময় ক্রেভিং আসে।
  2. ৩ সপ্তাহ – প্রথম তিন সপ্তাহ পার করতে পারলে ব্যক্তি আত্মবিশ্বাস পেতে শুরু করেন।
  3. ৩ মাস – তিন মাস টানা ধূমপানমুক্ত থাকতে পারলে অভ্যাস বদলে যায় এবং নেশা নিয়ন্ত্রণে আসে।
  4. ৩ বছর – তিন বছর ধরে সিগারেট থেকে দূরে থাকতে পারলে তাকে নিকোটিন আসক্তি থেকে মুক্ত বলা যায়।

ক্রেভিং মোকাবিলার উপায়

প্রথম কয়েক সপ্তাহ সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। তাই হাত ব্যস্ত রাখতে কলম, চুইংগাম বা লজেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া যেতে পারে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি—যেমন নিকোটিন গাম বা প্যাচ।

এ সময় ধূমপায়ী বন্ধু বা ধূমপানের পরিবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। কারণ সিগারেটের গন্ধ ক্রেভিং আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি মনে করিয়ে দেন—ক্রেভিং খুব বেশি হলে মাত্র কিছু সেকেন্ড বা মিনিট স্থায়ী হয়; এ সময়টুকু অন্যদিকে মনোযোগ সরিয়ে রাখাই মূল কৌশল।

স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিকিৎসকের মতে, নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে ধূমপান ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশে মুখগহ্বরের ক্যানসার, ফুসফুসের রোগসহ নানা জটিলতার বড় কারণ।

সর্বশেষ