১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সন্তানকে বুকে নিয়েছে: ঢাবি উপাচার্য

২০ ডিসেম্বর ২০২৫

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সন্তানকে আপন করে নিয়েছে। তিনি বলেন, যেন এক মা তার হারানো সন্তানকে আবার ফিরে পেয়েছে। এ সময় তিনি শহীদের জন্য দোয়া কামনা করেন।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দাফন কার্যক্রম শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শহীদ হাদির পরিবারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সম্প্রসারিত পরিবারের অংশ হিসেবে গণ্য করে। আজ থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিবারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপাচার্য।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানটি শুধু একটি দাফনস্থল নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই স্থানে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি রয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একাধিক সদস্য এখানেই শায়িত আছেন। সেই ঐতিহ্যবাহী স্থানে শহীদ হাদিকে দাফনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতি সম্মান জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

উপাচার্য জানান, হাদির দাফন বিষয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ সিন্ডিকেটের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে শহীদ হাদিকে এই কবরস্থানে দাফনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় আবেগ ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তার স্মরণ করা হয়।

এ সময় দাফন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে শহীদের মর্যাদা স্বতন্ত্র ও উচ্চ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে শহীদের যে বিশেষ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, আজকের আয়োজনেও তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে।

এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উত্তর পাশে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির দক্ষিণ পাশে শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

দাফনকালে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ চৌধুরীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ডাকসু প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ হাদির দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আনা হয়।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির দাফনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক সাহসী কণ্ঠ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেও, তার প্রতিবাদী চেতনা ও সংগ্রামের স্মৃতি দেশের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে।

সর্বশেষ