১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা জোরদার করতে এপিআই নীতি বাস্তবায়নে সরাসরি নজরদারির আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে ওষুধশিল্পকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করে জাতীয় স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা জোরদার করতে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ (এএইচআরবি)।

আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে এ নীতিকে ‘জাতীয় স্বার্থে শীর্ষ অগ্রাধিকার’ হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ওষুধ উৎপাদন সম্ভব হলেও এপিআই-এর বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে উৎপাদন ও স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। করোনাকালে এ দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এজন্য দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা–উন্নয়নে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের পর ধাপে ধাপে আমদানি সীমিত করা জরুরি।

১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতির উদাহরণ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কঠোর তদারকি ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে বড় নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব।

এপিআই নীতি বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে–
১. প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বাধা দূর করা
২. আকর্ষণীয় প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম চালু করা
৩. গবেষণা ও উন্নয়নে ধারাবাহিক সরকারি অনুদান নিশ্চিত করা
৪. অ্যাকাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা
৫. নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠন

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তত্ত্বাবধান থাকলে–

  • নীতি কাগুজে অবস্থায় আটকে থাকবে না
  • আমদানি নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে
  • রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হবে
  • দক্ষ কর্মসংস্থান বাড়বে, ট্যাক্স–জিডিপি অনুপাত উন্নত হবে

এ নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা, সক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্য–নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কৌশলগত রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ