১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘অ্যাভাটার থ্রি’ দেখে টাকা ফেরত চাইছে দর্শকেরা

২০ ডিসেম্বর ২০২৫

শুক্রবার বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে জেমস ক্যামেরনের আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘অ্যাভাটার’-এর তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পেলেও ছবিটি দর্শকদের বড় একটি অংশকে হতাশ করেছে।

দর্শকরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের প্রশংসা করলেও সিনেমার দীর্ঘ দৈর্ঘ্য, সংলাপ ও অগোছালো গল্পের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সিনেমাটিকে ‘সময় নষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এমনকি টিকিটের মূল্য ফেরত চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটির দৈর্ঘ্য ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট বা ১৯৭ মিনিট, যা এই সিরিজের আগের দুটি কিস্তির তুলনায়ও বেশি। সমালোচকদের মতে, এত দীর্ঘ সময়জুড়ে চোখধাঁধানো গ্রাফিক্স ছাড়া তেমন নতুনত্ব পাওয়া যায়নি। দর্শকদের অভিযোগ, পর্দার চাকচিক্য থাকলেও গল্পের গভীরতা ও আবেগের ঘাটতি স্পষ্ট। একই ধরনের দৃশ্য বারবার আসায় বিরক্ত হয়ে অনেক দর্শক সিনেমা শেষ হওয়ার আগেই হল ছেড়ে বেরিয়ে যান।

গল্প ও চরিত্র নির্মাণ নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবার জেমস ক্যামেরন মূল চরিত্র জেক সালি ও নেইতিরির উপস্থিতি কমিয়ে তাদের সন্তানদের গল্পে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে নতুন এই চরিত্রগুলো দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, তাদের আচরণ ও সংলাপ ছিল একঘেয়ে ও বিরক্তিকর।

সমালোচকদের ধারণা, প্রথম পর্বে যে টানটান উত্তেজনা ও আবেশ ছিল, তৃতীয় কিস্তিতে এসে তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সিনেমাটিকে বড় বাজেটের একটি সোপ অপেরার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার’ এবং পরবর্তী দ্বিতীয় কিস্তি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে রেকর্ড আয় করেছিল। তবে তৃতীয় পর্ব নিয়ে পাওয়া এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ভক্তদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে এর প্রভাব কী হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

সর্বশেষ