কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদপন্থী জাপার নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের (চুন্নু) মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
এদিন কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনটি আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত দুই দিনে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে সর্বমোট ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মুজিবুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তার সমর্থিত জাপার একাংশের মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতা এবং ঋণখেলাপি থাকার কারণে। তিনি বর্তমানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদপন্থী জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া একই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীরের মনোনয়ন এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতির কারণে বাতিল করা হয়। গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী দিলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার মনোনয়নও দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেহাদ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আলমগীর হোসাইনসহ ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে জেলা বিএনপির তিন শীর্ষ নেতাসহ মোট ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোছাদ্দেক ভূঁইয়াসহ সাতজনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এই আসনে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত তথ্যের ত্রুটির কারণে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ মো. রেজাউল করিম খান, সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আইনজীবী জালাল উদ্দীন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলামের মনোনয়নসহ চারটি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শফিকুল ইসলামসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, শনি ও রোববার মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে মোট ৬১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ২৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।


