ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পুনর্বাসন ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পলাতক সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাবেক ১৩ সচিবের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদের ছাড়াও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব কামাল উদ্দীন আহমদ, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সপরিবারে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা দেশত্যাগ করলে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে দুদক জানায়।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, পুনর্বাসনের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ৪০ একর জমি প্রকৃত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা গেজেটে ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আইনেও দীর্ঘমেয়াদি আবাসন লিজ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। ‘ফ্ল্যাট দীর্ঘমেয়াদি লিজ প্রদানের নীতিমালা–২০১৮’ গেজেট আকারে প্রকাশ না করেই তা কার্যকর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্টরা পরস্পরের যোগসাজশে আইনবহির্ভূতভাবে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছেন, যা দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।



