১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদি হত্যা : আসামি ফয়সালের সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা ফ্রিজ

৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দাখিল করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফ এসব ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্তের সময় ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবগুলো পর্যালোচনা করে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, অর্থায়ন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অন্তর্ভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

এ কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ১৪ ধারায় এসব হিসাব অবরুদ্ধ এবং ১৭(২) ধারার বিধান অনুযায়ী হিসাবগুলোতে থাকা অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যথায় তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি রয়েছে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, হাদি হত্যা মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল।

অন্যদিকে, সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারে সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সালের বোন জেসমিন ও তার স্বামী মুফতি মাহমুদ এখনও পলাতক রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

সর্বশেষ