১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অগোছালো ঘর মানেই কি অগোছালো মন? জেনে নিন মনোবিদদের মতামত

১২ জানুয়ারি ২০২৬

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় ঘরের এক কোণে জমে থাকা পুরনো কাগজ, আলমারির অগোছালো জামাকাপড় কিংবা রান্নাঘরের অপ্রয়োজনীয় কৌটাগুলো অনেক সময় আমাদের অলক্ষ্যেই মনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। মনোবিদ ও গবেষকদের মতে অগোছালো ঘর কেবল সৌন্দর্যের হানি ঘটায় না বরং এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে এলোমেলো পরিবেশে বসবাস করলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় যা মানুষকে দ্রুত ক্লান্ত ও অস্থির করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষের অগোছালো স্বভাব বা জিনিসপত্র জমিয়ে রাখার পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকে। অনেক সময় স্মৃতির টানে আমরা পুরনো জিনিস ফেলতে পারি না আবার কখনও ‘ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে’ এমন অনিশ্চিত ভাবনা থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখি। এছাড়া উদ্বেগ বা এডিএইচডির মতো মানসিক সমস্যার কারণেও অনেকের পক্ষে ঘর গোছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে ছোট কোনো অংশ গোছানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

বর্তমান যুগে কেবল শারীরিক পরিবেশ নয় ডিজিটাল ডিভাইসের অগোছালো ফাইল ও অপ্রয়োজনীয় ই-মেইলও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ফোনের গ্যালারি বা কম্পিউটারের ফাইল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে কোনো অপ্রয়োজনীয় বস্তু ত্যাগ করে ঘরকে পরিপাটি রাখা মানে নিজের মনকে প্রশান্ত রাখা। ঘর যত হালকা ও খোলামেলা হবে কাজের মনোযোগ এবং মানসিক স্বস্তি ততটাই বৃদ্ধি পাবে।

সর্বশেষ