হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদ পারাপারের বিনিময়ে বিশেষ শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় জলসীমায় আটক হওয়া তাদের তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে দেশটি। রয়টার্সের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
আটকা পড়া ভারতীয় নাবিক ও এলপিজি সংকটের ঝুঁকি
ভারত সরকার সোমবার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। এর মধ্যে ৬টি জাহাজ এলপিজি (রান্নার গ্যাস) বহন করছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে, ফলে এই জাহাজগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনা নয়াদিল্লির জন্য এখন অগ্রাধিকার।
ইরানের প্রস্তাব ও কূটনৈতিক বৈঠক
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে বসেন। ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি এলপিজি ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যার একটি আজ ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছেছে। বিনিময়ে ভারত থেকে তিনটি আটককৃত ট্যাংকার— ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ ফেরতের দাবি জানিয়েছে ইরান।
কেন আটক হয়েছিল ট্যাংকারগুলো?
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ড মুম্বাই উপকূল থেকে এই তিনটি জাহাজ আটক করে। জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল:
- পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন বা পরিবর্তন করা।
- মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তর (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার)।
- ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা।
আটককৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী এবং বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি শুরুতে এই জাহাজগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিল।
ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে বা ‘কুইড প্রো কু’ (Quid Pro Quo) হিসেবে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক বিনিময় বা ডিল হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন উভয় সংকটে রয়েছে।



