মালয়েশিয়ার শিল্প ও উৎপাদন খাতে রোবটিক্স ও অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি) গতি বাড়িয়ে বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প উপমন্ত্রী সিম জে জিন আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) কুয়ালালামপুরে ‘মেটালটেক অ্যান্ড অটোমেক্স এক্সিবিশন ২০২৬’ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই বড় সতর্কবার্তা দেন।
উপমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের অনেক শিল্প এখনও বিদেশি কর্মীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল, যা তাদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে গেলে মালয়েশিয়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের চাকরি হারানোর ভয় নেই, লাভ বেশি
অটোমেশনের ফলে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে সিম জে জিন বলেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে কর্মসংস্থান কমবে না। বরং এটি কর্মীদের আরও উচ্চ-দক্ষ ও উন্নত বেতনের পেশায় রূপান্তর করতে সাহায্য করবে। কোনো কারখানা যখন অটোমেশনে রূপান্তরিত হয়, তখন সেখানকার সাধারণ অপারেটররা টেকনিশিয়ানে উন্নীত হন। এর ফলে তারা নতুন জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি উচ্চ মজুরি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মালয়েশিয়ার সামনে এখন দুই বড় চ্যালেঞ্জ:
- প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি: প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন খাতকে আধুনিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
- ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ: দেশটিতে উচ্চ-আয়ের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং মজুরি বৃদ্ধির কারণে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে শিল্প খাত।
এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) অটোমেশনের ওপর জোর দিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার।
৩ হাজার কোম্পানিকে টার্গেট ও বিশাল অনুদান
ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া থেকে অটোমেশনে রূপান্তরের জন্য মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে ৩ হাজার কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এদের সহায়তায় বিশাল ম্যাচিং গ্রান্ট (অনুদানের টাকা) ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে:
- বড় কারখানার জন্য অনুদান: বড় কারখানাগুলোর জন্য এই ম্যাচিং গ্রান্টের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন রিঙ্গিত পর্যন্ত হতে পারে।
- স্বল্প সুদে ঋণ: মালয়েশিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স বারহাদ (MIDF) অটোমেশন ও আধুনিকীকরণের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধা দিচ্ছে।
- রপ্তানি সুরক্ষা ও ডিজিটালাইজেশন: দেশটির এক্সিম ব্যাংক কোম্পানিগুলোকে তাদের কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করতে এবং রফতানি সুরক্ষায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।



