কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন ও বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত দুই গেটম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার রাতেও তারা বহিরাগতদের নিয়ে নেশায় মত্ত ছিলেন, যার ফলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে।
নেশার আসর ও অবহেলার চিত্র
গত শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১২ জন প্রাণ হারান। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানদের সরকারি কক্ষে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বিছানার পাশেই ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এই কক্ষগুলো নেশার নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
মাদকের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, গেটম্যানদের ঘরে নেশা করার বিষয়টি তার জানা নেই এবং এটি প্রকৌশল বিভাগের আওতাধীন।
অন্যদিকে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ ফরহাদ সরকার বলেন, “মাদক সেবনের বিষয়টি দেখার প্রাথমিক দায়িত্ব স্টেশন মাস্টারের। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বর্তমানে তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন:
- তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- জেলা প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
- তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বজন হারানো পরিবারগুলো এখন কেবল সুষ্ঠু তদন্ত আর দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।



