২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজকে নিরাপত্তা দেবে ইরান

২৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি বন্ধুপ্রতীম দেশের জাহাজ চলাচলে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই মুহূর্তে ইরানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে তারা নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিচ্ছেন।

নিরাপত্তা পাবে যেসব দেশ রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরান যেসব দেশের জাহাজ চলাচলে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

  • বাংলাদেশ
  • ভারত
  • চীন
  • রাশিয়া
  • পাকিস্তান
  • ইরাক

আব্বাস আরাগচি বলেন, “অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। ভারত ও বাংলাদেশসহ আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জাহাজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তায় এই পথ অতিক্রম করতে পারবে। এমনকি যুদ্ধের পরেও এই সমন্বয় বজায় থাকবে।”

কঠোর অবস্থানে ইরান নিরাপত্তা দিলেও ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের প্রতিপক্ষ বা চলমান সংঘাতের সাথে জড়িত দেশগুলোর জন্য এই পথ ব্যবহারের সুযোগ নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বলেন, “পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এই পথ খোলা থাকবে।”

বৈশ্বিক জ্বালানি ও জাহাজ চলাচলের চিত্র বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

  • লয়েডস লিস্ট-এর তথ্য: সাধারণ সময়ে দৈনিক ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।
  • কেপলার-এর বিশ্লেষণ: জাহাজ চলাচলের এই হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম।

জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় যখন আকাশচুম্বী, তখন বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ইরানের এই বিশেষ অনুমতি বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ