১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেন বাবার পরিচয় দেন না ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা ভিভিয়ান

১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক আবারও আলোচনায়, তবে এবার কোনো ব্যবসায়িক চুক্তির জন্য নয়, বরং নিজের ২১ বছর বয়সী কন্যা ভিভিয়ান জেনা উইলসনের সাথে তিক্ত সম্পর্কের কারণে। সম্প্রতি ভিভিয়ান তাঁর জীবনের সংগ্রামের গল্প এবং বাবা ইলন মাস্কের প্রতি তাঁর পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পরিচয় বদল ও আত্মপ্রকাশ ২০২২ সালের আগপর্যন্ত ভিভিয়ানের পরিচয় ছিল জেভিয়ার মাস্ক নামে। সে সময় তাঁর লৈঙ্গিক পরিচয় ছিল ‘পুরুষ’। তবে ২০২২ সালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি শারীরিকভাবে নারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। শুধু শারীরিক পরিবর্তনই নয়, তিনি আইনিভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন এবং নিজের নাম থেকে বাবার ‘মাস্ক’ পদবিটি চিরতরে মুছে ফেলেছেন।

বাবার সাথে দূরত্বের কারণ ভিভিয়ানের এই অভিমানের শিকড় অনেক গভীরে। ২০০৪ সালে ইলন মাস্ক ও তাঁর প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের ঘরে জন্ম নেন ভিভিয়ান। ২০০৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে, মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। ভিভিয়ান একাধিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি আর কোনোভাবেই নিজেকে ইলন মাস্কের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে চান না।

বর্তমান জীবন ও ক্যারিয়ার বাবার পরিচয় ছাড়াই নিজের এক আলাদা জগত তৈরি করেছেন ভিভিয়ান জেনা উইলসন। বর্তমানে তিনি একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া পারসোনালিটি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মডেল হিসেবেও তিনি সফল, যার প্রমাণ মিলেছে বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ টিন’-এর প্রচ্ছদে তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে।

আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার এই লড়াইয়ে ভিভিয়ান এখন এক পরিচিত মুখ, যেখানে বাবার অঢেল সম্পত্তির চেয়ে নিজের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যই তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ