ফিফার ৭৬তম কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে কানাডার বিমানবন্দরে নজিরবিহীন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রেখে জেরা করার প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে অংশ না নিয়েই দেশে ফিরে গেছে পুরো ইরানি প্রতিনিধি দল।
বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল?
ফিফার বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কানাডার টরন্টো বিমানবন্দরে পৌঁছান মেহেদি তাজ এবং তার সফরসঙ্গীরা। সবার কাছে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে দেয়। বিশেষ করে মেহেদি তাজের সঙ্গে ইরানের ‘ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কানাডা। দেশটির আইন অনুযায়ী, এই সংগঠনের সদস্যদের কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মেহেদি তাজের বক্তব্য
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মেহেদি তাজ জানান, “আমাদের কাছে বৈধ ভিসা ছিল এবং পথে তুরস্কেও সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। টরন্টোতে তারা জানতে চায় আমরা আইআরজিসি-র সদস্য কি না। আমি তাদের জানিয়েছি, ইরানে ৯ কোটি মানুষ এই সংগঠনের সমর্থক।”
তিনি আরও জানান, তিন ঘণ্টা জেরার পর কেবল তাকে ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তার দলের বাকি সদস্যদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সঙ্গীদের বাদ দিয়ে সম্মেলনে অংশ নিতে রাজি হননি তিনি। তাজ স্পষ্ট করে বলেন, “তারা আমাদের বের করে দেয়নি, অপমানের প্রতিবাদে আমরাই ফিরে এসেছি।”
ফিফা সভাপতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
ইরানি প্রতিনিধি দল ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাদের বিশেষ বিমানে করে কানাডায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন মেহেদি তাজ।
ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ
এই ঘটনার পর ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইরানি ফুটবল প্রধান। তার অভিযোগ, ফিফা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফিফা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।



