২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেভাবে লাভজনক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বিশ্ব ভূ-রাজনীতি এবং তেলের বাজারে আমিরাতের এই আকস্মিক প্রস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

কেন ওপেকের ক্ষমতা কমছে?

দীর্ঘদিন ধরেই তেলের উৎপাদন কোটা নিয়ে ওপেকের ওপর অসন্তুষ্ট ছিল আমিরাত। নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে দেশটিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হলেও ওপেকের নিয়মের কারণে তারা বাজারে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করতে পারছিল না। এখন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আমিরাত স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন ও সরবরাহ করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে ওপেকের যে একচেটিয়া প্রভাব ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাভ যেখানে

বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয়ভার বেড়েছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমিরাত যদি বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করে, তবে তেলের দাম কমতে শুরু করবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমিরাত দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এটি সরাসরি মার্কিন বাজারে তেলের দাম কমাতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা

আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে নিছক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কারেন্সি সোয়াপ বা মুদ্রা অদলবদল চুক্তির অনুরোধের পর ওপেকের সাথে এই বিচ্ছেদ মূলত ওয়াশিংটনের সাথে আবু ধাবির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতারই ইঙ্গিত দেয়।

বাজারের বর্তমান অবস্থা

গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬.৪১ ডলারে উঠলেও, আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে তা আজ শনিবার ১০৮ ডলারে নেমে এসেছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে এখনো মার্কিন ভোক্তাদের জীবনে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং আমিরাতের নতুন সরবরাহ নীতি আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি মানচিত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ ফেলো আদনান মাজারেইর মতে, “ওপেক টিকে থাকলেও এটি আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে।” এখন দেখার বিষয়, আমিরাতের এই পথ অনুসরণ করে ওপেকের অন্য কোনো দেশ একই পথে হাঁটে কি না।

সর্বশেষ