দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬’ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের মাঠপর্যায়ের কর্মচারী এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় তাদের মাসিক টিফিন ভাতা এক লাফে পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে অষ্টম পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা মাসিক টিফিন ভাতা পান মাত্র ২০০ টাকা। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এই ভাতা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার টাকায়।
সর্বনিম্ন বেতন ও অন্যান্য ভাতার বড় পরিবর্তন
জাতীয় বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু টিফিন ভাতাই নয়, নতুন পে স্কেলে মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
- সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
- শিক্ষা ভাতা: সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
- বিশেষ নতুন সুবিধা: প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালুর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
বিগত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। কর্মচারীদের পুষ্টি ও কর্মদক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন এই বিশেষ সুপারিশগুলো করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, নতুন হার কার্যকর হলে কর্মস্থলে দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে বড় ধরনের সহায়তা মিলবে।
কবে থেকে কার্যকর হবে?
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।



