১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এইচপি থেকে চাকরি হারাবেন ৬ হাজার কর্মী

৭ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপি আগামী তিন বছরে একটি বড় আকারের কর্মীসংকোচন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৮ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাপী ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার কর্মী বাদ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামো আরও সরল করা এবং একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–ভিত্তিক প্রযুক্তিতে অধিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এনরিক লোরেস এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পণ্য উন্নয়ন, পরিচালন ব্যবস্থা ও গ্রাহকসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কারণে এসব বিভাগেই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে।

লোরেসের ভাষায়, নতুন কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে চায়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও কোম্পানিটি এক থেকে দুই হাজার কর্মীকে বিদায় জানায়।

এদিকে বাজারে দ্রুত বাড়ছে এআই সক্ষম ব্যক্তিগত কম্পিউটারের চাহিদা। এইচপির তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে তাদের মোট পিসি সরবরাহের ৩০ শতাংশের বেশি ছিল এআই–চালিত কম্পিউটার। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, ভবিষ্যতে এই চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্যের ধরণেও বড় পরিবর্তন আসবে।

তবে বাজার পরিস্থিতিতে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডেটা সেন্টারের এআই অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ায় বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের দামও বেড়ে যাচ্ছে। এতে এইচপি, ডেল ও অ্যাসারসহ বড় নির্মাতাদের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি লাভে চাপ ফেলতে পারে। লোরেস জানান, এই প্রভাব ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও স্পষ্ট হবে। যদিও প্রথমার্ধের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কোম্পানি কম দামে বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজছে এবং প্রপ্রয়োজনে কিছু মেমোরি কনফিগারেশন বাদ দেবে। দরকার হলে পণ্যের দামও সমন্বয় করা হবে বলে জানান লোরেস।

কোম্পানির দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়াবে ২ দশমিক ৯০ থেকে ৩ দশমিক ২০ ডলারের মধ্যে, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ৩ দশমিক ৩৩ ডলারের চেয়ে কম। প্রথম ত্রৈমাসিকের পূর্বাভাসও বিশ্লেষকদের মধ্যম মানের নিচে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চতুর্থ ত্রৈমাসিকে এইচপির আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাজারের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

এইচপি জানিয়েছে, ছাঁটাই ও ব্যয়সংকোচনের মাধ্যমে তারা এআইভিত্তিক নতুন পণ্য ও প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। লোরেস মনে করেন, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এ ধরনের পুনর্গঠন অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে ধারাবাহিক ছাঁটাইয়ের মধ্যে এই ঘোষণাটি কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির বিস্তার কর্মক্ষেত্রের ধরন এবং সুযোগ–সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, টিকে থাকতে হলে ভবিষ্যতের অপারেশনকে এআই–নির্ভর করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ