চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে দেশের সাধারণ মানুষকে বড় স্বস্তি দিতে জ্বালানি তেলের মূল্যে বিশাল কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৭৪ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৬৭ রুপি পর্যন্ত হ্রাস করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নতুন সরকারি মূল্যতালিকা অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখন থেকে প্রতি লিটার পেট্রোল পূর্বের ৩৭৩ রুপির পরিবর্তে ২৯৯ রুপিতে বিক্রি হবে। পাশাপাশি, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৩৭৮ রুপি থেকে কমিয়ে ৩১১ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন এই মূল্যহ্রাস?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়:
- বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- বিগত চরম সংকটকালীন দিনগুলোতে কঠোর সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বাজেট থেকে প্রায় ১২৯ বিলিয়ন রুপি সাশ্রয় করা হয়েছে, যা সরাসরি জ্বালানি খাতে সাধারণ মানুষের ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা থাকার পরও পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারগুলোর মধ্যকার নিবিড় সমন্বয়ের ফলেই দেশে কোনো ধরনের জ্বালানি ঘাটতি বা তেল সংকট দেখা দেয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ায় ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক অয়েল ট্যাংকার চলাচল আবার শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দামই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যার সরাসরি সুবিধা পেল পাকিস্তানের জনগণ।
উল্লেখ্য: সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় পাকিস্তান সরকার দেশের ভেতরে কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল। বিশেষ করে গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির ইতিহাসে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় সরকার অবশেষে এই বড় ধরনের মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।



