নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত, এলপিআর- এ থাকা কর্মকর্তারাও পেতে পারেন সুবিধা

২৫ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে সরকার এই নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

এলপিআর কর্মকর্তাদের জন্য বড় সুখবর

নতুন বেতন স্কেলে পিআরএল বা এলপিআর (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) ভোগরত কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুখবর। বর্তমানে যারা অবসর-উত্তর ছুটিতে বা এলপিআর সুবিধায় আছেন, তারাও এই নবম পে-স্কেলের আওতায় সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে অবসরগামী কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও কার্যকরের সময়

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা হাতে পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে এবং সরকারি খরচের সামঞ্জস্য বজায় রেখে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

বেতন বৃদ্ধির ৩টি বিকল্প প্রস্তাবনা:

নবম পে-স্কেলে মূল বেতন ঠিক কত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সরকার তিনটি ভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে:

  • প্রথম প্রস্তাব: সব গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর ঢালাওভাবে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি।
  • দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি।
  • তৃতীয় প্রস্তাব: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ (শতভাগ) পর্যন্ত বৃদ্ধি।

বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো

জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত রূপ পেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা চলছে। এই দুই খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করা হবে। এ লক্ষ্যে সচিব কমিটি আরেকটি জরুরি সভার ডাক দিতে পারে বলে জানা গেছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রবর্তনের চেষ্টা করছে, যাতে সর্বস্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন।

সর্বশেষ