বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের পতন অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির জোগান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বাজারমূল্য কমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্তরে নেমে এসেছে।
রেকর্ড লো-তে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুড
আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ১ ডলার ৬ সেন্ট বা ১.৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭২ ডলার ৬৮ সেন্টে নেমে এসেছে।
একই সঙ্গে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের মূল্য ৭৬ সেন্ট বা ১.০৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ ডলার ৫৮ সেন্টে। জ্বালানি বাজারের এই দুটি প্রধান চুক্তিই গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাদের সর্বনিম্ন দামের স্তরে পৌঁছাল। এর আগে গত বুধবারও ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল।
তেলের দাম কমার মূল কারণসমূহ:
- হরমুজ প্রণালি সচল হওয়া: ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি হয়। এর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল হয়েছে।
- জোগান বৃদ্ধি: আইজি সংস্থার বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর জানিয়েছেন, পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ব্যারেলগুলো বিশ্ববাজারে ফিরে আসছে।
- ইরানের তেল বিক্রির প্রস্তুতি: মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ায় ইরানও এখন বিশ্ববাজারে তেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে।
স্বাভাবিক হচ্ছে হরমুজ প্রণালি
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এক ফোরামে নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে তেলের প্রবাহ প্রায় যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রণালি দিয়ে অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল সফলভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে যুদ্ধকালীন সময়ে সমুদ্রের ওই জলপথে পুঁতে রাখা মাইনগুলো পুরোপুরি অপসারণ (ডিমাইনিং) করার প্রয়োজনীয়তা থাকায়, পুরো নৌপথটি সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আগস্ট মেয়াদের ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে সেপ্টেম্বর মেয়াদের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে, যা মূলত বিশ্ববাজারে স্বল্পমেয়াদি জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগানের কথাই স্পষ্ট ইঙ্গিত করে।



