নিউজ১০ ডেস্ক
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের একাধিক দফা বৈঠক হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের প্রধান দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিট (NEET) পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। আন্দোলনে পরে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও সংহতি জানান।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিট-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোরতা এবং কিছু প্রশাসনিক বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণই তাদের প্রধান দাবি এবং এ বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এদিকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু মন্ত্রণালয় পরিবর্তন নয়, অভিযোগের দায়ে শিক্ষামন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকেই অপসারণ করা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের সমর্থকদের আন্দোলনস্থলে প্রবেশ এবং খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।
দিল্লির বাইরে বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
বর্তমানে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও মূল দাবিতে অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



