আগামী সংসদ অধিবেশনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী

২৫ জুলাই ২০২৬

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং সেই সময়সীমা শেষ হবে আগামী ২৪ অক্টোবর।

শনিবার রাজধানী ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাই এ মুহূর্তে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আশা করছি, সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।”

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন আসছে সংসদে

আইনমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন-এর খসড়া আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে বিল দুটি সংসদে তোলা হবে।

তিনি বলেন, এ দুটি আইন নিয়ে সরকার এগোচ্ছে না—এমন ধারণা সঠিক নয়। অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই সময় নেওয়া হয়েছে।

জনমত ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত

আইনমন্ত্রী জানান, আইন দুটির খসড়া চূড়ান্ত করতে সিভিল সোসাইটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমতও নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, যতটা সম্ভব সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সংসদীয় কমিটিতেও বিলগুলো আরও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ থাকবে।

‘গুমের ঘটনায় জিরো টলারেন্স’

গুমের অভিযোগের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং গুমের ঘটনায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

বিচার বিভাগ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিচার বিভাগ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অধস্তন আদালতের প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিচারককে বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

আইনমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার করা হবে না। মাদক-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ