শাপলা চত্বরের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী

২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সকালে আত্মসমর্পণের ঘোষণা

এর আগে বুধবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী জানান, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গ্রেপ্তার না হলে আগামী রোববার বা সোমবার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।

তিনি আরও বলেন, সেদিন সকালে জানতে পারেন শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মগোপন নয়, বরং প্রকাশ্যেই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চেয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার

শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ওই সময় তিনি মন্ত্রী থাকলেও ঘটনার বিষয়ে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল না।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে।

রাজনৈতিক জীবন

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৪ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় এবং আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কৃত হন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ওই বছরের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদও বিলুপ্ত হয়।

সর্বশেষ