মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জে প্রবেশের পর আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের গাড়িবহরের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করেন।
মহাসড়কে অবস্থান, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হালকা বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান নিয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। বাসের সামনে পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
আগের দিনের সংঘর্ষের প্রতিবাদে যাচ্ছিলেন নেতারা
মঙ্গলবার হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা এবং নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে শহরে দলটির প্রতিবাদ মিছিল ঘিরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয় এনসিপি। একই সময়ে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয়। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাচ্ছিলেন।
শ্রীমঙ্গলেও আটকে দেওয়া হয়
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে এনসিপির গাড়িবহর প্রথমবারের মতো আটকে দেওয়া হয়।
গাড়িবহরে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
১৪৪ ধারা জারির পরও যাত্রা
এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বিকেল ৩টায় সমাবেশের ঘোষণা দেয় এনসিপি। একই সময়ে জেলা ছাত্রদলও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন এনসিপির নেতারা।
‘মাত্র পাঁচজনকে যেতে চেয়েছিলাম’
কামাইছড়া এলাকায় সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, আগের দিনের হামলায় দলের প্রায় ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদ, মামলা দায়ের এবং আহতদের দেখতে তারা হবিগঞ্জে যেতে চেয়েছিলেন।
তার ভাষ্য, পুলিশের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, পুরো বহরের পরিবর্তে দলের মাত্র পাঁচজন নেতা হবিগঞ্জে প্রবেশ করবেন। কিন্তু সেই অনুমতিও দেওয়া হয়নি।



