পণ্য পরিবহনে ডাক বিভাগের রেকর্ড

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিঠি-পত্রের গণ্ডি পেরিয়ে ডাকযোগে এখন গ্রাহকের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, এসি কিংবা বাসার আসবাবপত্রের মতো ভারী পণ্য। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় গত দুই মাসে রেকর্ড প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।

প্রথম কেজিতে ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজিতে মাত্র ৫ টাকা মাশুলে এই সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যেসব পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে: আইনত বৈধ যেকোনো পণ্যই এখন ডাকের মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব। ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, আলমারি, এসি, টিভি, বাইসাইকেল, রান্নাঘরের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ পর্যন্ত বিলি করা হয়েছে।

পণ্য পৌঁছানোর সময়সীমা:

  • জেলা শহর থেকে ঢাকা: সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা।
  • এক জেলা থেকে অন্য জেলা: সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা।
  • প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চল: সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা।

যেসব পণ্য পাঠানো যাবে না: নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্ফোরক, দাহ্য পদার্থ, বিপজ্জনক রাসায়নিক, মাদক, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডার এই সেবার বাইরে রাখা হয়েছে।

আধুনিক সুবিধা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

  • অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর: ঘরে বসেই পার্সেল পাঠানোর খরচ জানার সুবিধা।
  • বাসা বদল সেবা: ভবিষ্যতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পুরো বাসার আসবাবপত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • পরিবেশবান্ধব যানবাহন: ইতোমধ্যে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক যুক্ত করা হয়েছে।
  • সমন্বিত মেইল হাব: ঢাকার তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টার, কমলাপুর ও ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে যুক্ত করে তিনটি হাবে সমন্বিত মেইল ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পিড পোস্ট সেবাটি চালু হয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সর্বশেষ