নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এই সুবিধাটি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে চালুর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নগদ টাকার সাময়িক সংকট মেটানো এবং ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
ঋণের পরিমাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্র এই সুবিধার আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে এই অর্থ দিয়ে কেবল অনুমোদিত ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে পরিষেবা বা পেমেন্ট পরিশোধ করা যাবে।
- বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য ইউটিলিটি বিল
- মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ
- ভ্রমণ ব্যয়, কর ও সরকারি সেবার ফি
- ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম
নগদ উত্তোলনের সুযোগ নেই এই ঋণের অর্থ কোনোভাবেই নগদে উত্তোলন করা যাবে না। এমনকি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ওয়ালেটেও স্থানান্তরের সুযোগ নেই। নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সেবা প্রদানকারী বা বিলদাতার কাছে অর্থ চলে যাবে।
মেয়াদ ও সেবা ফি (সার্ভিস চার্জ) এই ঋণের জন্য কোনো সুদ নেওয়া হবে না, তবে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি (সার্ভিস চার্জ) প্রযোজ্য হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের তিনটি ক্যাটাগরি থাকছে:
- ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণ: ৭ দিনের জন্য ফি ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা।
- ৭,০০১ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ: ৭ দিনের জন্য ফি ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত কোনো সুদ বা বাড়তি ফি লাগবে না। তবে নির্ধারিত মেয়াদের পর ঋণ পরিশোধ না করলে দৈনিক সেবা ফির সমপরিমাণ জরিমানা আরোপ হতে পারে।
বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ৬ মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রজেক্ট) এই সুবিধা চালু রাখবে। পরবর্তীতে পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। গ্রাহক নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন ও পরিশোধ—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) এবং একাধিক স্তরের নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা।



