সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাইবার হেনস্তা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের মুখোশ খুলে দিতে অভিনব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ‘নো মোর সাইলেন্স’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। সংবাদমাধ্যম, তারকা কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে যারা অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন, তাদের প্রকৃত পরিচয় জনসমক্ষে উন্মোচন করাই এই প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্য।
ইতোমধ্যেই তাদের হাত ধরে ট্রোল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারী একাধিক রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীর আসল নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে।
যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আবির আহম্মেদ পিয়াস ও তার সহযোগীদের উদ্যোগে গত বছরের নভেম্বরে ‘নো মোর সাইলেন্স’ পেজ ও গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই উদ্যোগের সাথে ৫০ হাজারেরও বেশি সদস্য যুক্ত রয়েছেন।
সদস্যরা আলোচিত বিভিন্ন পোস্টের কমেন্ট সেকশনে নজর রেখে অশালীন মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করেন। এরপর ভুয়া বা ফেইক অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার রুখতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মন্তব্যকারীর আসল প্রোফাইল, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, কর্মস্থল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে সত্যতা যাচাই করা হয়।
সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তের ছবি, নাম, পরিচয় ও তার করা কুরুচিপূর্ণ কমেন্টের স্ক্রিনশটসহ একটি ডিজিটাল ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করে পেজে প্রকাশ করা হয়।
বাস্তব প্রভাব ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
‘নো মোর সাইলেন্স’-এর এই কার্যক্রমে ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা ও ট্রোলিং কমে আসছে। শতাধিক ব্যক্তির পরিচয় উন্মোচনের পাশাপাশি অভিযুক্তদের নিজ নিজ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রবাসে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অশালীন আচরণের প্রমাণ পাঠাচ্ছেন পেজটির কর্মীরা।
এর ফলে একাধিক প্রতিষ্ঠান অভিযুক্তদের নোটিশ জারি, তদন্ত কমিটি গঠন এবং সাময়িক বরখাস্তের মতো কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রবাসে কর্মরত কয়েকজন প্রবাসীও চাকরিদাতার কাছে তথ্য পৌঁছানোর পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনেকে এখন বিতর্কিত মন্তব্য মুছে ফেলছেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও উদ্যোগের মূল লক্ষ্য
সাইবার হেনস্তা প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের এমন সামাজিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইন ও সাইবার বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, কমেন্ট সেকশনের নোংরা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি এক বড় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে আইনি ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
উদ্যোক্তারা তাদের পেজের বিবরণীতে জানান, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থনকারীদের আসল রূপ হরহামেশাই কমেন্টবক্সে দেখা যায়। ফেসবুকের নিজস্ব কমিউনিটি গাইডলাইন এসব রুখতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অনলাইন জগতকে কুরুচিপূর্ণ আলাপন মুক্ত করা এবং অপরাধপ্রবণ মানসিকতার মানুষদের মুখোশ উন্মোচন করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করাই তাদের মূল লক্ষ্য।



