সোমবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

শেখ হাসিনার পতন কারও আন্দোলনে হয়নি : কাদের সিদ্দিকী

১৬ নভেম্বর ২০২৫

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের অর্জন নয়। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনার পতন বিএনপি-জামায়াত কিংবা কোনো নতুন শক্তির কারণে হয়নি; এটি ছিল আল্লাহর গজবেরই ফল, যা তিনি নিজেই ডেকে এনেছেন।”

রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে তাদের সাংবিধানিক অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ইসিই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান, যার ওপর জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব বর্তায়।

কাদের সিদ্দিকী জানান, গত ১৫ মাস ধরে বর্তমান সরকারের ডাকে কোনো আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তারা পালন করে আসছেন। তার দাবি, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সরকারের ভূমিকা কেবল নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। একইসঙ্গে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তিনি অসংগতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, গণভোটে যদি ৭০-৮০ শতাংশ ভোটার অংশ না নেয়, তবে পুরো নির্বাচনই ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতীতে নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছামতো কাজ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে বঙ্গবীর বলেন, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য ইসলামি দলকে তিনি সম্মান করেন; কিন্তু জামায়াতকে নয়। “তারা যদি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইত, তখন সম্মান দেওয়া যেত। আমাকে হত্যা করলেও মিথ্যা বলানো যাবে না,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত হলে দেশে আবার শান্তি ফিরে আসবে। তার দাবি, সঠিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারলে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের চেয়েও শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত হতে পারে।

নিজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে কোনো সন্ত্রাসীরই সেখানে টিকতে পারে না। গত নির্বাচনে ২১টি কেন্দ্রে সিল করা ফলাফলে অস্বাভাবিকতা দেখেছেন বলে জানান তিনি—“৪টা ১৩ মিনিটে যেখানে ১৭০৮ ভোট ছিল, পরে তা বেড়ে ২৬০০ হয়ে যায়।”

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে বিভক্ত করে ফেলেছে। শেখ হাসিনার পতন হলেও স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ বা তার মূল্যবোধ নষ্ট হয়নি। “অনেক সময় শেখ হাসিনাকেই বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা সঠিক নয়,” যুক্ত করেন তিনি।

এনসিপি নিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু কিংবা জিয়াউর রহমানসহ দেশের ইতিহাসের সকল অধ্যায়কেই তারা অস্বীকার করে।

বঙ্গবন্ধুকে নিজের রাজনৈতিক পিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই দেশকে ভালোবাসতে শিখেছি। আপনারা ভালো নির্বাচন করতে পারলে জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”

সংলাপের শেষদিকে তিনি ইসিকে সতর্ক করে বলেন, “দেশের বৃহৎ অংশের ভোটারকে বাইরে রেখে ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবে।”

সর্বশেষ