দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাংলাদেশের ছাত্ররা গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এখন নির্বাচনী মাঠে তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দলটি আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত ও সম্পদশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে।
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমাদের সংগঠন এখনও দুর্বল, কারণ গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সময় পাইনি।” নাহিদ বলেন, দলটি দেশের রাজনীতি থেকে স্বজনপ্রীতি ও দুই দলের আধিপত্য ভাঙার লক্ষ্যে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, এনসিপির সমর্থন মাত্র ৬%– বিএনপি ৩০% এবং জামায়াতে ইসলামী ২৬% ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দল কোনো আসন জিততে পারেনি, যা তরুণ নেতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। নারীবাদী কর্মী তাপসী বলেন, “তারা মধ্যপন্থী দাবি করে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অবস্থান নিতে দেরি করে।”
দলটি রাজনৈতিক জোট নিয়ে আলোচনা করছে, কারণ স্বাধীনভাবে দাঁড়ালে তারা একটি আসনও নাও জেতার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোট হলে দলের বিপ্লবী ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
তহবিল সংগ্রহও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এনসিপি মূলত ছোট অনুদান, ক্রাউডফান্ডিং এবং সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থের উপর নির্ভর করছে। গ্রামের পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা দলের প্রধান কাজ।
দলটি দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ক্ষমতার সমান বণ্টন লক্ষ্য করছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “জয় বা পরাজয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা নতুন কিছু উপস্থাপন করছি।”
এনসিপি নেতা এবং সমর্থকরা আশা প্রকাশ করছেন যে তরুণদের নেতৃত্বে রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতি ও স্বচ্ছতা আসবে। বিএনপি ও জামায়াতও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।



