১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খাদ্যের অভাবে ৬০ হাজারেরও বেশি পেঙ্গুইনের করুণ মৃত্যু

৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলবর্তী এলাকায় খাদ্যের অভাবে ৬০ হাজারের বেশি পেঙ্গুইন মারা গেছে। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে আফ্রিকান পেঙ্গুইনদের প্রধান খাদ্য সার্ডিন মাছের সংখ্যা কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফ্রিকান পেঙ্গুইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল— ডাসেন দ্বীপ ও রবিন আইল্যান্ডে ৯৫ শতাংশেরও বেশি পেঙ্গুইন বিলু’প্ত হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মোল্টিং বা পালক পরিবর্তনের সময় প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবে তারা মারা গেছে। জলবায়ু সংক’ট ও অতিমাত্রায় মাছ শিকারকে এই ব্যাপক হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওস্ট্রিচ: জার্নাল অব আফ্রিকান ওরনিথোলজি-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের ড. রিচার্ড শার্লি জানান, এই বিপর্যয় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় এবং অন্যান্য স্থানেও একইভাবে পেঙ্গুইন কমে যাচ্ছে।

আফ্রিকান পেঙ্গুইনরা প্রায় ২১ দিনের মোল্টিং পর্বের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত চর্বির মজুদ রাখে। ড. শার্লি বলেন, “মোল্টিংয়ের আগে বা পরে যদি পর্যাপ্ত খাদ্য না পায়, তাহলে তারা উপবাসের সময়টায় টিকতে পারে না। আমরা হয়ত অনেক পেঙ্গুইনের মৃ’তদেহ ভেসে থাকতে দেখি না, কারণ তারা সমুদ্রেই মারা যায়।”

গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০০৪ সালের পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে সার্ডিন মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যা পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য। উপকূলীয় পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার পরিবর্তনে মাছের ডিম ছাড়া কমে গেছে, কিন্তু মাছ শিকার বেড়েছে। গত ৩০ বছরে আফ্রিকান পেঙ্গুইন প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৪ সালে প্রজাতিটিকে ‘অতিসংকটাপন্ন’ (Critically Endangered) ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ