১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তালাক পরবর্তী মীমাংসায় ইসলামের নির্দেশনা

৬ ডিসেম্বর ২০২৫

তালাক ইসলামে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ধর্মবিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভুল পদ্ধতিতে তালাক প্রয়োগ করলে তা যেমন গুনাহের বিষয় হয়ে যায়, তেমনই স্বামী ও স্ত্রীর জন্য সম্পর্কের পুনর্বহালের সুযোগও হারিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম্পত্য জীবনের চূড়ান্ত অচলাবস্থা ছাড়া তালাক দেওয়া বা চাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। তালাকের পথ খোলা রাখা হয়েছে শুধুমাত্র অতীব প্রয়োজনের ক্ষেত্রে, এবং এ সময়ই স্বামীকে সতর্কভাবে কাজ করতে হবে।

শরিয়ত অনুযায়ী, তালাকের সময় স্ত্রী ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র থাকা কালীন সময়ে স্পষ্টভাবে এক তালাক ঘোষণার মাধ্যমে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা যায়। এই ক্ষেত্রে ইদ্দত চলাকালীন স্বামী যদি স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করতে চান, তাহলে তা বৈধ। তবে দুইবারের বেশি তালাক দেওয়া হলে পুনর্বিবাহের সুযোগ থাকে না। কোরআনে বলা হয়েছে, “তৃতীয় তালাকের পর স্ত্রীকে ফেরানো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে গ্রহণ করে এবং পরে তালাক প্রাপ্ত হয়।”

ধর্মবিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ইসলামের উদ্দেশ্য হলো দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষা করা এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা। রাগ বা ক্ষোভে তালাক দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং বিপজ্জনক, যা দাম্পত্য জীবনকে হারাম ও অটল করে দিতে পারে।

শেষে তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, “দাম্পত্য জীবন আল্লাহর প্রদত্ত একটি বড় নেয়ামত। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কর্তব্য এটি যথাযথভাবে রক্ষা করা এবং অতীব প্রয়োজন ছাড়া তালাক ব্যবহার না করা।”

সর্বশেষ