১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারত সফর থেকে কত টাকা পকেটে ভরলেন মেসি?

২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

গেল ১৩ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্টলেক স্টেডিয়াম) লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার তদন্তে বেরিয়ে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার প্রধান সংগঠক শতদ্রু দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিশেষ তদন্তকারী দল জানিয়েছে, দর্শকদের অতি-উৎসাহ এবং নিরাপত্তার চাদর ভেঙে মেসির কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন বিশ্বজয়ী এই ফুটবল তারকা। সব নিয়ে ভীষণ চটেও ছিলেন এমএল টেন।  

গ্রেপ্তার শতদ্রু দত্ত তদন্ত কমকর্তাদের জানিয়েছেন, মেসি পিঠে হাত দেয়া বা বারবার আলিঙ্গনের অনুরোধ একেবারেই পছন্দ করেন না। বিদেশি নিরাপত্তা আধিকারিকরা আগেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। শতদ্রু দত্ত দাবিম করেন, বারবার ঘোষণা করা সত্ত্বেও দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

তিনি আরও জানান, এক প্রভাবশালী ব্যক্তির আগমনে মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ১৫০টি গ্রাউন্ড পাসের জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে সংখ্যাটি তিন গুণ করা হয়। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণেই অনুষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত ছক নষ্ট হয়ে যায় এবং মেসি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসির অত্যন্ত কাছে ছিলেন এবং তাকে কোমর জড়িয়ে ধরে ছবি তুলছিলেন। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয় ও পরিচিতদের মেসির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই বিতর্কের জেরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।

তদন্তকারী দল মেসির এই সফরের বিপুল খরচের হিসাবও সামনে এনেছে। শতদ্রু দত্তর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট খরচ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেসির পারিশ্রমিক ৮৯ কোটি টাকা। ভারত সরকারকে কর দেয়া হয়েছে ১১ কোটি টাকা। আয়ের ৩০ ভাগ স্পনসরদের থেকে এবং ৩০ শতাংশ টিকিট বিক্রি থেকে।

তদন্তকারী দল শতদ্রু দত্তর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ফ্রিজ করেছে। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। শতদ্রু দাবি করেছেন, এই টাকা টিকিট বিক্রি এবং স্পনসরদের থেকে পাওয়া। তবে পিযুষ পাণ্ডে, জাভেদ শামীম, সুপ্রতিম সরকার ও মুরলীধরের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে।

চড়া দামে টিকিট কিনেও মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পেয়ে এবং ভিড়ের চাপে খেলা বা অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শকরা স্টেডিয়ামের একাংশ ভাঙচুর করেন। নিরাপত্তার এই চরম গাফিলতি এবং পাস বণ্টনে অনিয়মই এখন তদন্তের প্রধান বিষয়।

সর্বশেষ