১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের রণপ্রস্তুতি ও ইসরায়েলের সতর্কতা: তবে কি ইরানে মার্কিন হামলা?

১২ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন অস্থিরতার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু এবং পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ বা বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্তভাবে’ পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এক বার্তায় লেখেন, “ইরান স্বাধীনতার মুখ দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।” হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পকে ইতোমধ্যে ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক ও অ-সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।

এদিকে মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় ইসরায়েল এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে। শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে এক জরুরি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে ইরানের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইসরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান যদি কোনোভাবে পাল্টা হামলার চেষ্টা করে, তবে তেল আবিব তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল।

ইরানও এই হুমকির বিপরীতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা হয়, তবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সব মার্কিন ঘাঁটি, কেন্দ্র এবং যুদ্ধজাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।” একদিকে রাজপথে সাধারণ ইরানিদের বিক্ষোভ আর অন্যদিকে দুই পরমাণু শক্তিধর মিত্রের সামরিক বেষ্টনী—সব মিলিয়ে তেহরান এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

সর্বশেষ