৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রমজানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন ৮ উপায়ে

২৫ জানুয়ারি ২০২৬

রমজান এলেই অনেকের মনে ইবাদত বাড়ানোর দৃঢ় সংকল্প তৈরি হয়। তবে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই রমজান শুরু হওয়ার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। ইসলামি শিক্ষায় রমজানের প্রস্তুতির যাত্রা শুরু হয় রজব মাস থেকে, শাবান মাসে তা আরও জোরদার হয় এবং রমজানে তার ফল পাওয়া যায়।

প্রখ্যাত আলেম ইবনে রাজাব আল-হাম্বলি এক গ্রন্থে সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ভাষায়, রজব হলো বীজ বপনের সময়, শাবান হলো সেচের মাস আর রমজান হলো ফসল কাটার মৌসুম। অর্থাৎ, আগেভাগে প্রস্তুতি নিলে রমজানের বরকত ও সুফল অর্জন করা সহজ হয়।

রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতে নিচে আটটি সহজ ও বাস্তবমুখী পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

১. লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করুন
রমজানে কোন কোন ইবাদত বা ভালো কাজ করতে চান, তা একটি তালিকায় লিখে দৃশ্যমান স্থানে রাখুন। এতে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

২. সাধ্যের মধ্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
অতিরিক্ত বড় পরিকল্পনার বদলে প্রতিদিন নিয়মিত করা যায়—এমন ছোট আমলকে গুরুত্ব দিন। যেমন প্রতিদিন কোরআনের এক পৃষ্ঠা তিলাওয়াত বা নিয়মিত সদকা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।

৩. রমজানের গুরুত্ব ও ইবাদত সম্পর্কে জানুন
রোজার উদ্দেশ্য, ফজিলত, তারাবি, কিয়ামুল লাইল, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের নিয়ম আগেই জেনে নিলে রমজানে আমলে মনোযোগ বাড়ে।

৪. রজব ও শাবানে নফল রোজার অভ্যাস গড়ে তুলুন
রমজান শুরুর আগে সোম ও বৃহস্পতিবার বা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখলে শরীর ও মন রমজানের জন্য প্রস্তুত হয়।

৫. ঈদের প্রস্তুতি আগেভাগে শেষ করুন
ঈদ বা শাওয়ালের কেনাকাটা ও ঘরের কাজ রমজানের আগেই সেরে রাখলে রমজানের সময় ইবাদতে বেশি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

৬. খাবারের পরিকল্পনা ও হালকা ব্যায়াম করুন
পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা রোজার সময় সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সহায়তা করে।

৭. নারীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি
মাসিককালীন সময়ে নামাজ ও রোজা আদায় না করা গেলেও জিকির, দান-সদকা, দোয়া ও পরিবারের কাজে সহযোগিতার মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করা যায়।

৮. নিয়মিত দোয়ার অভ্যাস করুন
সাহাবিরা রমজানের ছয় মাস আগে এই মাসে পৌঁছানোর জন্য দোয়া করতেন এবং পরের ছয় মাস আমল কবুল হওয়ার দোয়া করতেন। বহুল প্রচলিত একটি দোয়া হলো—
“হে আল্লাহ, রজব ও শাবান আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”

রমজানের প্রকৃত বরকত অর্জনের জন্য শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন সচেতন ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি। রজব মাস থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু করলে রমজান হতে পারে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সুযোগ।

সর্বশেষ