তেহরান: ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে সমন্বিত সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চালানো এই যৌথ অভিযানকে ইসরায়েল ‘প্রাক-প্রতিরোধমূলক হামলা’ হিসেবে দাবি করেছে। হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণ
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে দুই দফা শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিশেষ করে রাজধানীর ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পশ্চিম তেহরানে অবস্থানরত আলজাজিরার প্রতিনিধিও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক ভিডিও বার্তায় তেহরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িত থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘যৌথ অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয় ও ইন্টারনেট আতঙ্ক
হামলার পর থেকেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খোদ তেহরানেই ফোনে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ ও জরুরি অবস্থা
হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও ইসরায়েল—উভয় দেশই তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে। এদিকে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নিজ দেশে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইসরায়েলি হামলার পর পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলার জবাব হবে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’।
সারসংক্ষেপ:
- তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত।
- ট্রাম্পের ভিডিও বার্তায় হামলার দায় স্বীকার।
- ইরান ও ইসরায়েলে বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ।
- ইরানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নের খবর।



