১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলে আইনি নোটিশ

১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডাদেশকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে তা বাতিলে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তার ন্যায্য বিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বিচারটি এমন এক শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এতে বিচারিক স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি একজন বিচারক আগেই দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ল’ফার্মটি বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ। এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা বেআইনি।

সবশেষে তারা দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ