মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দিনের শুরুতেই তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বর্ণের দাম অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দরপতনের নেপথ্যে প্রধান কারণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের আশা ম্লান হওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই দরপতনের মূল কারণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে।
অন্যান্য কারণগুলো হলো:
- ডলারের শক্ত অবস্থান: মার্কিন ডলারের মান ০.৪ শতাংশ শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা এখন ব্যয়বহুল।
- বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি: ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমেছে।
- তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি: হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।
বাজারে বর্তমান চিত্র
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৯৮.২২ ডলারে নেমেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও হ্রাস পেয়েছে:
- রুপা: ২.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৪.৫ ডলার।
- প্ল্যাটিনাম: ৩.১ শতাংশ হ্রাস।
- প্যালাডিয়াম: ১.৬ শতাংশ হ্রাস।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ট্রাম্প-শি বৈঠকের দিকে
বাজার বর্তমানে ৪,৫০০ ডলারের স্তরটিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখছে। তবে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে বুধবারের নির্ধারিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং-এর বৈঠকের ওপর। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করবে।



