১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আলু-পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর

১৫ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর জারি থাকা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা অবশেষে তুলে নিল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে আলু, পেঁয়াজসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য ও পশুপণ্য দেশের যেকোনো রাজ্যে কোনো বাধা ছাড়াই পাঠানো যাবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এক বিশাল বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব বাধা অপসারণের ঘোষণা

রাজ্য সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, আগের সরকারের জারি করা আন্তঃরাজ্য রপ্তানির কঠোর নিয়ম এখন থেকে অতীত। তিনি বলেন, “আগের সরকার রপ্তানি বন্ধ রেখে কৃষকদের চরম দুর্দশার মুখে ফেলেছিল। আজ থেকে অন্য রাজ্যে ফসল পাঠাতে বাধা দেওয়ার সেই প্রথার অবসান ঘটল। সীমান্তে পণ্য পরিবহনে কেউ বাধা দিতে পারবে না এবং কাউকে হয়রানিও করা যাবে না।”

রপ্তানি তালিকায় যা থাকছে

নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কেবল আলু নয়, বরং নিচের পণ্যগুলো এখন থেকে অবাধে পরিবহন করা যাবে:

  • আলু ও পেঁয়াজ।
  • খাদ্যশস্য ও তেলবীজ।
  • সব ধরনের ফল ও সবজি।
  • পশুপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা। হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমানের মতো আলু প্রধান জেলাগুলোতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শাসকদলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শুভজিৎ সাহা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আগের ভ্রান্ত নীতির কারণে আলু মাঠে নষ্ট হয়েছে, অনেক কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে, যা এখন দ্রুত অন্য রাজ্যে পাঠানো সম্ভব হবে।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া কৃষি অর্থনীতিকে সচল করতে আজ (শুক্রবার) কলকাতার খাদ্য ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এছাড়া আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি খাতে দুর্নীতি রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সর্বশেষ