ইউটিউবকে টেক্কা দিতে বিশ্বজয়ে চীনের ‘বিলিবিলি’: আনছে ইংরেজি ওয়েব ও আন্তর্জাতিক অ্যাপ

২৪ আগস্ট ২০২৬

ইউটিউবের আধিপত্যে ভাগ বসাতে বিশ্বজুড়ে বড় পরিসরে বৈশ্বিক বাজার দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীনের জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ‘বিলিবিলি’ (Bilibili)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করতে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে তাদের আন্তর্জাতিক অ্যাপ নতুন রূপে চালু করেছে। এর পাশাপাশি শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনাও করছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপসহ বিশ্বের প্রভাবশালী বাজারগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিলিবিলি। এই সম্প্রসারণ রূপায়ণে বিভিন্ন দেশে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াকালীন প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

বর্তমানে বিলিবিলির মূল চীনা প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতি মাসে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ। বৈশ্বিক বাজারে এই প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ঘটিয়ে সরাসরি টেক জায়ান্ট ইউটিউবকে চ্যালেঞ্জ জানানোই এখন মূল লক্ষ্য।

ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ও পশ্চিমা কনটেন্ট নির্মাতাদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টানতে উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইউটিউবার মিস্টারবিস্টসহ একাধিক পশ্চিমা তারকা ইতোমধ্যে বিলিবিলির চীনা সংস্করণে ভিডিও প্রকাশ করা শুরু করেছেন। নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে একটি ইংরেজি ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ব্র্যান্ড স্পনসরশিপের জন্য মার্কেটপ্লেস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে এতে।

বিদেশি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ করতে বিলিবিলির আন্তর্জাতিক অ্যাপ সংস্করণে তুলে দেওয়া হয়েছে পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা। ফলে এখন থেকে পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র ছাড়াই যেকোনো প্রান্তের ব্যবহারকারীরা সহজে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

বৈশ্বিক কার্যপরিধি প্রসারের অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস, লন্ডন, মেক্সিকো সিটি, সাও পাওলো, ইস্তাম্বুল ও টোকিওতে স্থানীয় ‘কমিউনিটি ম্যানেজার’ নিয়োগ দিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি, কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সমন্বয়ে বিশ্বব্যাপী একটি এআই-নির্ভর (AI) মনিটরিং সিস্টেম গড়ে তুলছে তারা।

তবে এই বৈশ্বিক সম্প্রসারণের পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে চীনা এই প্ল্যাটফর্মটি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সেন্সরশিপ নীতি এবং সরকারি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর আগে টিকটক যেভাবে রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মুখে পড়েছিল, বিলিবিলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ