নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

৩১ আগস্ট ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম পে-স্কেল’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন লাভ করে। নতুন এই বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তি ও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পে-স্কেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ:

  • বেতন বৃদ্ধি ও অনুপাত: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং ১ম গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।
  • বাস্তবায়ন পদ্ধতি: ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দুই ধাপে এটি কার্যকর হবে। স্বল্প আয়ের (১০ম থেকে ২০তম গ্রেড) কর্মচারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে ৩টি ধাপে এবং ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
  • ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (OROP): ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন হবে। বর্তমানে নিট পেনশনের ওপর স্ল্যাবভিত্তিক ৫৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে (কম পেনশনভোগীরা সর্বোচ্চ ১০০% বৃদ্ধি পাবেন)।
  • নতুন ভাতা ও সুবিধা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে মাসে ৩,০০০ টাকা ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালু এবং ৫ম গ্রেডের পরিবর্তে ১মে থেকে ২০তম—সব গ্রেডের জন্য ‘মোবাইল ভাতা’ নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • জুডিশিয়াল সার্ভিস: আলাদা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-স্কেলও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা থেকে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত ও সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উপকৃত হবেন। শিগগিরই অর্থ বিভাগ থেকে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সর্বশেষ